রক্ত, কোষ, হরমোন ও জীবজগত
রাফি জীববিজ্ঞান পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সে প্রথমে মানবদেহের রক্ত সম্পর্কে পড়তে শুরু করল। সে জানল, রক্ত একটি যোজক টিস্যু এবং একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরে গড়ে প্রায় ৫–৬ লিটার রক্ত থাকে। রক্তের প্রায় ৫৫% হলো রক্তরস (Plasma) এবং বাকি অংশে বিভিন্ন রক্তকণিকা ও অনুচক্রিকা থাকে।
রক্তের লোহিত রক্তকণিকা বা RBC-এর মধ্যে হিমোগ্লোবিন থাকে। হিমোগ্লোবিন একটি লৌহযুক্ত প্রোটিনজাতীয় পদার্থ এবং এটি রক্তকে লাল রং প্রদান করে। হিমোগ্লোবিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো অক্সিজেন পরিবহন করা। অন্যদিকে, শ্বেত রক্তকণিকা বা WBC শরীরকে রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। WBC-এর মধ্যে নিউট্রোফিল, মনোসাইট ও বেসোফিলসহ বিভিন্ন ধরনের কোষ রয়েছে। তবে ক্রিয়েটিনিন কোনো শ্বেত রক্তকণিকা নয়। অনুচক্রিকা বা Platelet রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
রাফি আরও জানল যে রক্তচাপ মাপার জন্য স্ফিগমোম্যানোমিটার ব্যবহার করা হয়। আর শরীরের রক্তের পুরোনো বা ক্ষতিগ্রস্ত লোহিত রক্তকণিকা অপসারণ এবং রক্ত সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্লীহা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এরপর রাফি হরমোন সম্পর্কে পড়ল। অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইনসুলিনের অভাব হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গিয়ে ডায়াবেটিস হতে পারে। মানুষের ইনসুলিন অণুতে মোট ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে।
এরপর সে কোষ সম্পর্কে পড়ল। জীবদেহের গঠন ও কাজের মৌলিক একক হলো কোষ। প্রাককেন্দ্রিক কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না, আর ব্যাকটেরিয়া হলো প্রাককেন্দ্রিক জীবের উদাহরণ। বিপরীতে সুকেন্দ্রিক কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে।
রাফি জনন কোষ সম্পর্কেও জানল। মানুষের দেহকোষে ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকলেও শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মতো জনন কোষে থাকে ২৩টি ক্রোমোসোম, অর্থাৎ দেহকোষের অর্ধেক।
জীবজগতের অন্যান্য গোষ্ঠী সম্পর্কে পড়তে গিয়ে রাফি জানল, ছত্রাকের কোষপ্রাচীর কাইটিন দিয়ে গঠিত। উদ্ভিদের কোষপ্রাচীরের প্রধান উপাদান সেলুলোজ এবং ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরে পেপটাইডোগ্লাইকান পাওয়া যায়।
ক্যান্সার চিকিৎসা সম্পর্কেও রাফি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শিখল। রেডিওথেরাপিতে উচ্চশক্তির বিকিরণ, যেমন X-ray, ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষের ক্ষতি করা হয়। এতে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
সবশেষে রাফি উদ্ভিদের টিস্যু সম্পর্কে পড়ল। উদ্ভিদের যেসব কোষ সক্রিয়ভাবে বিভাজিত হয়ে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটায়, সেগুলো ভাজক টিস্যু-এর অন্তর্ভুক্ত। ভাজক টিস্যুর বিভিন্ন ধরনের কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশের বৃদ্ধি ঘটে।
মনে রাখার মতো বিষয়
রক্ত → যোজক টিস্যু → ৫৫% Plasma → RBC → Hemoglobin → Oxygen
WBC → রোগ প্রতিরোধ
Platelet → রক্ত জমাট বাঁধানো
Sphygmomanometer → রক্তচাপ
Insulin → রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ → অভাবে Diabetes
Bacteria → Prokaryotic → সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই
Gamete → দেহকোষের অর্ধেক ক্রোমোসোম
Fungi → Chitin
Radiotherapy → X-ray/উচ্চশক্তির বিকিরণ
Blood → Connective tissue
Meristematic tissue → কোষ বিভাজন ও উদ্ভিদের বৃদ্ধি