রিসোর্সে ফিরুন
স্টাডি রিসোর্স১২ অক্টোবর, ২০২৬

চর্যাপদের কবি ও পদকর্তাদের পরিচয়: কে কতটি পদ রচনা করেছেন?

চর্যাপদের কবি ও পদকর্তাদের পরিচয়: কে কতটি পদ রচনা করেছেন?

চর্যাপদ নিয়ে পরীক্ষায় যে অংশ থেকে সবচেয়ে বেশি এবং সবচেয়ে কৌশলী প্রশ্ন আসে, তা হলো এর পদকর্তা বা সিদ্ধাচার্যদের পরিচয়। মোট কতজন কবি চর্যাপদ রচনা করেছেন, কে সবচেয়ে বেশি পদ লিখেছেন, কার পেশা কী ছিল—এই খুঁটিনাটি তথ্যগুলো নিয়েই পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি তৈরি হয়। কারণ একাধিক গবেষকের মতামত এখানে ভিন্ন ভিন্ন, আর নাম্বারের হিসাবেও সামান্য তারতম্য রয়েছে।

এই ব্লগে চর্যাপদের কবি ও পদকর্তাদের সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো একত্রে সাজিয়ে দেওয়া হলো, যাতে পরীক্ষার হলে গিয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক উত্তরটি বেছে নিতে পারেন।

১. কবি সংখ্যা নিয়ে মতভেদ: ২৩ জন নাকি ২৪ জন?

চর্যাপদের মোট কবি সংখ্যা নিয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে সামান্য মতভেদ রয়েছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্-র মতে চর্যাপদের পদকর্তা বা কবির সংখ্যা ২৩ জন, যা তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ Buddhist Mystic Songs-এ উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে সুকুমার সেন ও অন্যান্য কিছু পণ্ডিতের মতে এই সংখ্যা ২৪ জন। পরীক্ষায় প্রশ্নকর্তা প্রায়ই নির্দিষ্ট গবেষকের নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন করেন, তাই "কার মতে" অংশটি খেয়াল করেই উত্তর বাছাই করতে হবে।

শহীদুল্লাহ্-র মতে চর্যাপদ রচিত হয়েছিল আনুমানিক ৬৫০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে—এই কালসীমাটিও আলাদাভাবে মনে রাখা দরকার।

২. মোট পদের সংখ্যা: সাড়ে ছেচল্লিশটি কেন?

চর্যাপদে মূলত সাড়ে ছেচল্লিশটি (৪৬.৫টি) পদ পাওয়া গেছে। সংখ্যাটি অর্ধেক কেন—এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে ২৩ নম্বর পদের মধ্যে। এই পদটি সম্পূর্ণ পাওয়া যায়নি, বরং খণ্ডিত বা অর্ধেক অবস্থায় পাওয়া গেছে, আর ২৪, ২৫ ও ৪৮ নম্বর পদগুলো একেবারেই পাওয়া যায়নি। এজন্যই মোট প্রাপ্ত পদের হিসাবে এই "সাড়ে" শব্দটি যুক্ত হয়েছে।

- গবেষকভেদে চর্যাপদের মূল পদসংখ্যা নিয়েও ভিন্নমত আছে—কারো মতে ৫০টি, কারো মতে ৫১টি।
- তবে প্রাপ্ত বা উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা নিয়ে অধিকাংশ সূত্রই সাড়ে ছেচল্লিশের কথা বলে।

৩. সর্বাধিক পদ রচয়িতা: কাহ্নপা ও ভুসুকুপা

চর্যাপদের পদকর্তাদের মধ্যে সর্বাধিক পদ রচনা করেছেন কাহ্নপা (বা কৃষ্ণপাদ)। তিনি একাই ১৩টি পদ রচনা করেছেন, যা তাঁকে কবি ও সিদ্ধাচার্যদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থানে নিয়ে গেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ রচয়িতা ভুসুকুপা, যিনি মোট ৮টি পদ লিখেছেন।

এই দুই কবির নাম ও সংখ্যা—১৩ এবং ৮—এই দুটি সংখ্যা একসাথে মনে রাখলে এই ধরনের প্রশ্নে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ কমে যায়।

৪. আদি কবি কে: লুইপা না কাহ্নপা?

অনেকেই ভুল করে কাহ্নপাকে চর্যাপদের প্রথম কবি মনে করেন, কারণ তিনি সর্বাধিক পদ লিখেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে চর্যাপদের প্রথম বা আদি কবি হলেন লুইপা। চর্যাপদের প্রথম পদটি ("কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল...") তাঁরই রচনা। তিব্বতি ঐতিহ্য অনুসারে ৮৪ জন সিদ্ধাচার্যের মধ্যে লুইপাকেই আদিসিদ্ধ বা প্রথম কবি হিসেবে গণ্য করা হয়।

মনে রাখার সহজ কৌশল: "সবচেয়ে বেশি লিখেছেন" আর "সবচেয়ে আগে লিখেছেন"—এই দুটি আলাদা প্রশ্ন, এবং উত্তরও আলাদা কবি।

৫. পদকর্তাদের পেশাগত পরিচয়: সমাজের প্রতিচ্ছবি

চর্যাপদের আরেকটি কৌতূহলোদ্দীপক দিক হলো, এর পদকর্তারা শুধু সাধক-কবি ছিলেন না, তাঁদের প্রত্যেকেরই একটি সামাজিক পেশাগত পরিচয়ও ছিল, যা পদগুলোতে প্রতিফলিত হয়েছে। যেমন—

ভুসুকুপা ছিলেন ব্যাধ (শিকারি), এবং তিনিই একমাত্র কবি যিনি নিজেকে সরাসরি "বাঙালি" বলে পরিচয় দিয়েছেন।
কাহ্নপা ছিলেন আচার্য বা যোগী।
ঢেণ্ডণপা পেশায় ছিলেন একজন তাঁতি। চর্যাপদে তাঁর মাত্র ১টি পদ (৩৩ সংখ্যক) পাওয়া যায়।

এই পেশাগত পরিচয়গুলো থেকেই বোঝা যায়, চর্যাপদ কেবল ধর্মীয় সাধনার গ্রন্থ নয়, বরং তৎকালীন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রারও একটি জীবন্ত দলিল।

শেষ কথা

চর্যাপদের কবি ও পদকর্তাদের নিয়ে প্রশ্নগুলো মূলত সংখ্যা ও নাম কেন্দ্রিক—কে কতটি পদ লিখেছেন, কে প্রথম, কে পেশায় কী ছিলেন। এই তথ্যগুলো এলোমেলোভাবে মুখস্থ না করে একটি তুলনামূলক ছক তৈরি করে পড়লে মনে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।

 

MCQ Entra-এ প্র্যাকটিস শুরু করুন

হাজারো MCQ, মক টেস্ট ও AI গাইডলাইন, সব এক জায়গায়।

এখনই শুরু করুন
অ্যাপ ডাউনলোড করুন